জমজম ইসলামী হাসপাতাল, রাজশাহী

মেডিসিনের পাঠ্যপুস্তক বাংলা ভাষায়

Medicine-book-of-Dr-Azizul-Hoque-Abdullah

আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে দীর্ঘ চার বৎসর পরিশ্রমের পর বাংলায় মেডিকেলের টেক্সট বইটি লিখা শেষ করতে পেরেছি। বাংলায় বইটি লিখার পূর্বে ইংরেজিতে রচিত অনেক মেডিসিনের বইপত্র ও জার্নাল পড়েছি কিন্তু বাংলা ভাষায় একটিও মেডিসিনের বই পাইনি। বইটি সম্পূর্ণ নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি। এজন্য দূর্বোধ্য বাংলা শব্দ যথাসম্ভব পরিহার করে সহজ বাংলা শব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। যে সমস্ত ইংরেজি শব্দের বাংলা অনুবাদ কোথাও পাইনি বা অনুবাদ করতে পারিনি পাঠকের সুবিধার্থে সেগুলো অবিকল ইংরেজি ভাষায় রেখে দিয়েছি (বিশেষভাবে মেডিকেল টার্মগুলো)।

এই বইটি দুটি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূলনীতি ও চিকিৎসার প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্র ও সেগুলোর রোগসমূহ এবং চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এই বইটি মূলতঃ আমার প্রিয় এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা। তথাপিও এই বইটি পড়ে সর্বস্তরের চিকিৎসকবৃন্দ উপকৃত হবেন বলে আমি আশা করি বিশেষতঃ যারা মেডিসিন practice করেন। কেউ কেউ এরূপ মন্তব্যও করেছেন যে এই বই থেকে হাতুড়ে ডাক্তারেরা লাভবান হবে। এব্যপারে আমার বক্তব্য এই যে, আমাদের দেশে quack practice আইনতঃ নিষিদ্ধ নয়। এমতাবস্থায় যদি তারা এই বইটি পড়ে উপকৃত হয় তাতে ক্ষতি কি? বরং যখন চিকিৎসাবিজ্ঞান বুঝার চেষ্টা করবে তখনই তার নিজের জ্ঞানের দৈন্যতা ধরা পড়বে এবং শিক্ষিত ও ডিগ্রীধারী চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।

এই বইটির লেখা সংশোধন, শব্দচয়ন ইত্যাদি কাজে আমাকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই প্রফেসর ডাঃ কাজী ওয়ালী আহমেদ (ফার্মাকোলজি বিভাগ, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী)। এব্যপারে আরও সহযোগীতা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রফেসর শাহ মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান সাহেব।

কম্পিউটার কম্পোজ, format তৈরী ও ভাষান্তরে সার্বিক সহযোগীতা ও কঠোরভাবে শ্রম দিয়েছেন আমার প্রিয়ভাজন সহকারী মোঃ চাঁদ হাসান (সুনাম)

উল্লেখিত সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়াও নাম উল্লেখ করা হয়নি এমন অনেকে এই বই লিখতে উৎসাহ যুগিয়েছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সবশেষে এই বইটির মুখবন্ধটি লিখে দেওয়ার জন্য আমি বিশেষভাবে ঋণী থাকলাম আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও বিএসএমএমইউ এর মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জনাব প্রফেসর ডাঃ আব্দুল জলিল চৌধুরি স্যারের নিকট। সবাইকে ধন্যবাদ।

 

ডাঃ মোঃ আজিজুল হক (আব্দুল্লাহ)
প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (মেডিসিন বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ

Leave a Comment

Your email address will not be published.